বিটিআরসি’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে

১৭ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০৪  

বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আমজাদ হোসেন (নিপু) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপপরিচালক মাহদী আহমদের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকর্মকর্তারা। সংস্থার ২৮৭তম কমিশন সভায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মোঃ এমদাদ উল বারীর স্বাক্ষরিত সভার বিবরণী থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার থেকে মামলার প্রসিডিং শুরু হয়েছে বলে জানাগেছে।

এর আগে গত ১১ আগষ্ট কমিশনের চাকরি প্রবিধিমাল ২০২২ বিধি-৪৮ ও ৫৪ ধারা এবং সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি-৩(খ)(ঘ),(ই) ও বিধি ১২ এর অনুকূলে অভিযুক্ত নিপু ও মাহদীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো। তারপর গত ১৯ আগষ্ট বিটিআরসি’র ২৮৬ তম সভায় অপরাধ তদন্তে সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ খলিল উর রহমানকে আহ্বায়ক করে পরিচালক তারেক হাসান সিদ্দিকী ও লেঃ কর্নেল মোঃ রাশেদুজ্জামানকে সদস্য সচিব এবং লেঃ কর্ণেল এস এম রেজাউর রহমানকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছিলো।

সূত্রমতে,অভিযুক্তদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে সারাদেশে ১০ হাজার লোক মাঠে নামানোর অভিযোগ উঠেছে বিটিআরসির বরখাস্ত উপপরিচালক ও পদত্যাগ করা চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এই কাজে তাকে মদদ দেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। মাঠে না নামলে অপারেটরদের লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখাতেন আমজাদ। এ ছাড়াও আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন লাইসেন্স প্রদান, বিটিআরসির অর্থ লোপাট এবং নথি গায়েবের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সময় আমজাদ হোসেনের নামে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সভার নামে আপ্যায়ন খাতে ভাউচার ছাড়াই ৫৩ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই সময় সংশ্লিষ্ট নথি গায়েব করে দেন আমজাদ।

অপরদিকে মাহদী আহমদ এর পিতা মাহফুজ উদ্দিন আহমদ গত আওয়ামী সরকারে আমলে তিন-তিন বার বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ৪৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনি বর্তমানে দুদকের চার্জশিট ভূক্ত আসামী। এছাড়াও অভিযুক্ত আমজাদ আইএসপিএবি (ইন্টারনেট লাইসেন্সধারীদের সংগঠন) এর পরিচালক এস এম জাকির হোসাইন (ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক) এর মদদে শুধুমাত্র দলীয় বিবেচনায় সারাদেশের সাবেক ছাত্রলীগ/যুবলীগ/স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পাঁচ শতাধিক আইএসপি লাইসেন্স প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তিনি দুর্নীতিতে দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে বিটিআরসি-থেকে অবিলম্বের তার পদত্যাগ চেয়ে গত ১১ আগষ্ট দিন-ভর বিক্ষোভ করে বিটিআরসি’র সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে ছাত্র-জনতা অভ্যূত্থানের পর আর অফিসে যোগ দেননি অভিযোগ আমজাদ হোসেন। অপরদিকে ওই দিন আটকে রেখে সন্ধ্যার দিকে মেহেদীকে পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্ততায় ছেড়ে দেয়া হয়। এই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ বিভিন্ন দাবিতে বিটিআরসিতে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। ওইদিন সকাল থেকেই বিটিআরসির বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে কোনো লেজুড়বৃত্তি, সিন্ডিকেট চলবে না বলে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ওই দুই কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।